Submitted by Energypac on Sun, 04/18/2021 - 15:50

মেস থেকে নেমে বাস স্ট্যান্ডের দিকে চলে গেল মামুনের বন্ধু, বাড়ি ফিরবে। মামুন মোটর সাইকেলে রওনা দিল ডেলিভারি দিতে। গরম বাড়ছে, তার হাতে সিলিং ফ্যানের অনেক অর্ডার। কাল থেকে নাকি অনির্দিষ্ট কালের জন্য লকডাউন। কে জানে এবার ঈদে তার বাড়ি ফেরা হবে কিনা!   

নক করতেই দড়জা খুলে দিলেন গৃহকর্তৃ। গ্যাস সিলিন্ডার বসাতে রান্নাঘরের দিকে রওনা দিল খিলগাঁওয়ের মিজান। বাসার বাচ্চাটা উঁকি মেরে তাকে দেখতে আসলেই তার মা ধমকে উঠল “ওদিকে যেয়ো না, করোনা হবে।” নিজেকে অনাহূত মনে হলো মিজানের। লকডাউনে বাইরে কাজ করে যেতে হচ্ছে বলে পরিবার ও প্রতিবেশীরাও তার থেকে আক্রান্ত হবার ভয়ে থাকে। 

ভার্সিটি বন্ধ দেখে ফুড ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ নিয়েছিল রেজা। ভেবেছিল কঠোর লকডাউনের আগে বাড়ি চলে যাবে। কিন্তু তার আগেই শরীরে বাসা বেধে বসলো করোনা। Personal Protection Equipment থাকলে হয়ত সে সুরক্ষিত থাকত!

মামুন, মিজান, রেজার মতো হাজার হাজার ডেলিভারি ম্যান দেশের আনাচে কানাচে ডেলিভারি দিয়ে যাচ্ছেন খাবার, ওষুধ, জরুরি বিদ্যুৎ সেবা, ফ্যান, লাইট, এক্সটেনশন সকেটের মতো প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, বই, রান্নার কাঁচামাল সামগ্রী সহ নিত্যদিনের ব্যবহার্য লাখো জিনিস। তাদের বদৌলতে ব্যস্ত নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল, জ্যাম, দোকানের ভীড় বা রেস্টুরেন্টের অলস অপেক্ষমান সময়- কিছুই ভোগ করতে হচ্ছে না আমাদের।

ভোক্তার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে শুধু ঢাকাতেই ডেলিভারি কোম্পানি গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০০। ‘ডেটাবিডি ডট কো’ এর তথ্য অনুসারে দেশে করোনা মহামারীর পূর্বে দৈনিক ডেলিভারি প্রদানের পরিমাণ ছিল ৬০,০০০ এবং ডেলিভারি সেক্টরের গড় আয় ছিল প্রতিদিন ৫০ লক্ষ টাকা। শতভাগ বার্ষিক সম্বৃদ্ধি নিয়ে এগোতে থাকা এই সেক্টরের উন্নয়নের মূলে রয়েছে ডেলিভারি ম্যানদের উদীয়মান সংখ্যা।

অথচ আমাদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে নিয়োজিত এই ডেলিভারি ম্যানদের নিয়ে আমরা কতটুকু ভাবি? করোনা মহামারীর সময় কয়টি প্রতিষ্ঠান তাদের ডেলিভারি ম্যানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে? কয়জন তাদের ডেলিভারি ম্যানদের কভিড টেস্টের ব্যবস্থা করেছে? তাদের কি টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে? কভিড আক্রান্ত হলে তাদের মেডিকেল খরচ প্রদান করা হচ্ছে? বা করোনায় যেসব কোম্পানীর ডেলিভারি সার্ভিস বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাদের পরিবারের দায়ভার কারা নিচ্ছে? 

লকডাউনে অফিস, দোকান বন্ধ থাকলেও ঘরে ঘরে বৈদ্যুতিক পণ্য ব্যবহারের চাহিদা থেমে থাকে না, চলতে থাকে নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজ। তাই ইলেক্ট্রনিক্সের শিল্পকারখানা এবং ব্যবস্থাপনা পরিষদকে থাকতে হয় সচল। এ সময় কোম্পানী এবং ভোক্তার মাঝে একমাত্র সেতুবন্ধন হয়ে কাজ করে ডেলিভারি ম্যান। তাদের উপর নির্ভর করে সচল থাকে অর্থনীতির একটা বিরাট অংশ।

ডেলিভারি ম্যানরা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তখনই সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন যখন আমরা তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করব। আর সেজন্যই এনার্জিপ্যাক ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড তাদের জন্য ব্যবস্থা করেছে পিপিই, শুরু করেছে রোস্টার বেইজ কার্যক্রম, প্রদান করছে স্বাস্থ্য বীমা। মাস্ক, সেনিটাইজার প্রদানের পাশাপাশি তারা কর্মক্ষেত্রে WHO কর্তৃক অনুমোদিত নিয়মাবলীর পোস্টার লাগিয়েছে এবং সুরক্ষা কৌশল পালনে তাদের মানবসম্পদ বিভাগ ডেলিভারী ম্যানদের করেছে অনুপ্রাণিত।

আসুন আমাদের উপকারে সদা নিয়োজিত এই ডেলিভারি ম্যানদের আমরা তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেই। পারিপার্শ্বিক কারণে ডেলিভারি দিতে একটু দেরি হলে তাদের সাথে কলহে না জড়াই। করোনাকালীন দুঃসময়ে স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুকি নিয়ে তারা যে কাজ করে যাচ্ছে তার মর্যাদা রাখতে আমরা বাসায় থাকি। খুব প্রয়োজন না হলে বাসা থেকে না বের হই। পবিত্র মাহে রমযানে বা ঈদে তাদের সুস্থ জীবন কামনা করে দোয়া পড়ি অথবা তাদের হাতে তুলে দেই ইফতার বা ঈদ উপহার। পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও সম্প্রীতি এগিয়ে নিয়ে চলুক পৃথিবী।

Please click here to read this blog in English